আমার ভারতীয় বন্ধু পার্থ যেভাবে ব্যবসায়িক লোন নিয়ে তাঁর পোল্ট্রি মুরগীর ব্যবসা শুরু করল
আমার এক বন্ধু আছে, পার্থ। কলেজ বন্ধু। শেষবার যখন কথা হলো, শুনলাম সে ওড়িশায় পোল্ট্রি ফার্ম শুরু করেছে। ব্যাপারটা শুনে আমার খুব কৌতূহল হলো যেহেতু আমি নিজেও ছোটবেলায় মুরগি পালন করেছি, কিন্তু সেটা ছিল শখের ব্যাপার। পার্থ কিন্তু ব্যবসা বলেই দেখেছে। কথা প্রসঙ্গে জানতে চাইলাম, কীভাবে সে এই পথে এলো। শুরুটা শুনে থমকে গেলাম।
একদম ফাঁকা হাত থেকে শুরু করেনি। প্রায় আড়াই বছর আগে ওর বাবার ছোট্ট দোকান ছিল, কিন্তু করোনায় সেটা বন্ধ হয়ে যায়। তারপর কিছুদিন চাকরি করলেও মন টেকেনি। তখনই মাথায় আসে পোল্ট্রি ব্যবসার আইডিয়া। কিন্তু মূলধন কোথায়? সেখানেই আসে ব্যবসায়িক লোনের প্রসঙ্গ। আজ আমি সেই পুরো গল্পটাই শেয়ার করব পার্থ কীভাবে এই লোন পেল, কীভাবে পরিকল্পনা করল, আর আজ কোথায় দাঁড়িয়ে। জানেন, শুরুর কথাটা কিন্তু মোটেও মসৃণ ছিল না। বরং, খুব কঠিন ছিল।
পার্থ কেন পোল্ট্রি ব্যবসা বেছে নিল: সিদ্ধান্তের পেছনের গল্প
পার্থ আমার একদম কাছের বন্ধু। আমরা দুজনেই কলকাতায় থাকতাম। আমাকে ও বলেছিল, “বড় ব্যবসা করতে হবে না, এমন কিছু দরকার যাতে প্রতিদিন নগদ টাকা আসে।” বেশ কয়েকটা অপশন ছিল সবজি, মাছ, দুগ্ধজাত পণ্য, কিন্তু শেষমেশ পোল্ট্রিতেই স্থির হলো।
কেন জানেন? কারণ চাহিদা একদম কাঁচা বাজারে ছিল। বাংলাদেশে যেমন মুরগি অত্যন্ত জনপ্রিয়, তেমনই ভারতীয় গ্রামীণ বাজারে চাহিদা অপরিসীম। বিশেষ করে ওড়িশার প্রত্যন্ত অঞ্চলে প্রতিদিন মাংসের চাহিদা আছে। ওখানে রোজই বিয়ে-পার্বণ, পুজো-অনুষ্ঠান সবেতেই মুরগি চাই।
সেই আপডেট জানতে আমি ইন্টারনেট ঘেঁটে আজকের তথ্য যোগ করলাম। এপ্রিল-মে মাসের খবরে দেখা গেছে, ওড়িশায় পোল্ট্রি খাতে বার্ষিক উৎপাদন ১৮-২০% হারে বাড়ছে। স্থানীয় কৃষি বিভাগের মতে, এ বছর মোট উৎপাদন ২৪ লাখ টন ছাড়াবে। পার্থও এই পরিসংখ্যানই আগে পড়েছিল।
কিন্তু শুধু চাহিদা থাকলেই কি হয়? না, আরেকটা বড় কারণ ছিল খরচ। মুরগির ছানা, খাবার, ওষুধ প্রাথমিক বিনিয়োগ তুলনামূলক কম। ১০০০ মুরগির জন্য শুরুতে ২.৫ থেকে ৩ লাখ টাকা হলেই চলে। পার্থ জানাল, আমি হিসাব করে দেখলাম ব্যাংক লোন পেলে সুদসহ মাসিক ৪০০০-৫০০০ টাকা কিস্তি দিলেই চলে। সেটা ফার্মের আয় থেকে দিয়েই বের করতে পারবে।
ব্যক্তিগত দ্বিমত: বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় পোল্ট্রি ব্যবসা খুবই লাভজনক, কোনও রিস্ক নেই। আমি একমত নই, কারণ বাজারে ডিম আর মাংসের দাম অত্যন্ত ওঠানামা করে। পার্থ-ই বলল, মার্চ-এপ্রিলে হঠাৎ ব্রয়লারের দাম কেজিপ্রতি ১৫ টাকা কমে গিয়েছিল। যার ফলে লাভের মার্জিন প্রায় শূন্যে নেমে এসেছিল। যারা ঝুঁকি বুঝে ব্যবসায় নামেন, তারাই টিকে থাকেন।
কার্যকারী পরামর্শঃ পোল্ট্রি ব্যবসায় নামার আগে অন্তত তিন মাসের বাজার মূল্যের ট্রেন্ড নোটবুকে লিখে ফেলুন। বিশেষ করে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি আর জুলাই-আগস্টের দামের পার্থক্য বোঝা জরুরি।
ব্যাংক লোন পাওয়ার লড়াই: কীভাবে প্রথমবার আবেদন ব্যর্থ হলো
পার্থ যখন প্রথম ব্যাংকে গেল, সেদিন সে খুব আত্মবিশ্বাসী ছিল। কিন্তু ফলাফল? ফিরে এল খালি হাতে। অস্বীকার করার কারণ শুনে রাগ হলো তার। ব্যাংক ম্যানেজার বলল, “আপনার আগে কোনও ব্যবসার অভিজ্ঞতা নেই। এটা খুব রিস্কি।”
সত্যি বলতে, এটাই বাস্তব চিত্র। ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য ব্যাংক লোন পাওয়া অত্যন্ত কঠিন। বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকায়। পার্থ ভেবেছিল, তার বাবার জমি আছে, সেটা বন্ধক রাখবে। কিন্তু ব্যাংকের নিয়ম অনুযায়ী, জমি থেকে পৃথক নিরাপত্তা চেয়েছিল তারা।
সেই সময়ে আমি তাকে বলেছিলাম, “CGTMSE স্কিমটা দেখো না?” এটা সরকারি গ্যারান্টি স্কিম, যেখানে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের জন্য ব্যাংক লোন সহজ হয়। পার্থ ইন্টারনেটে সার্চ করে জানল, মাইক্রো এন্টারপ্রাইজদের জন্য ৫০ লাখ টাকা পর্যন্ত লোনের ৮৫% গ্যারান্টি সরকার দেয়। এই তথ্য পেয়ে ও আবার ব্যাংকে গেল।
এবার কিন্তু সফল হলো। কিন্তু লোন পাওয়া মানেই তো শেষ নয়। ব্যাংক ডিসবার্সমেন্টের জন্য দীর্ঘ প্রক্রিয়া। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, প্রজেক্ট রিপোর্ট, ভেটিং সব মিলিয়ে আরও ২০ দিন লেগে গেল। পার্থ বলল, সেই সময়টায় খুব অস্থির ছিল। কারণ ভেবেছিল লোন পেলেই কাজ শুরু হবে, কিন্তু ব্যাংকগুলো এত তাড়াতাড়ি কাজ করে না।
সম্প্রতি মে মাসের শেষ সপ্তাহের তথ্যানুযায়ী, ভারতের বিভিন্ন ব্যাংকে পোল্ট্রি লোনের জন্য আবেদনের সময় তিন থেকে চার সপ্তাহ লাগছে। বিশেষ করে গ্রামীণ ব্যাংকগুলোতে সময় আরও বেশি। আমি নিজেও এক বন্ধুর মাধ্যমে জেনেছি, কেরালায় এক পোল্ট্রি খামারি ছয় মাস অপেক্ষা করেছিলেন লোনের জন্য।
আশ্চর্যের বিষয়: পার্থ তার লোন পেয়ে গেল মাত্র ৩৫ দিনে। কারণ সে আগে থেকে সমস্ত ডকুমেন্ট প্রস্তুত রেখেছিল জমির খতিয়ান, ট্যাক্স রসিদ, পোল্ট্রি বাজারের সম্ভাব্যতা রিপোর্ট, এমনকি নিজের সঞ্চয়ের হিসাবও। আমি বুঝলাম, সঠিক পরিকল্পনা থাকলে সময় কমানো যায়।
কার্যকারী পরামর্শঃ আপনি যেদিন ব্যাংকে লোনের জন্য আবেদন করবেন, তার তিন দিন আগেই সব কাগজপত্র ফটোকপি করে ফাইল বানিয়ে রাখুন। সবচেয়ে জরুরি হল আয়কর রিটার্নের কপি। এটি ছাড়া ছোট ব্যবসায়ীদের জন্য লোন পাওয়া প্রায় অসম্ভব।
লোনের টাকা কীভাবে খরচ করল: প্রথম তিন মাসের হিসাব
পার্থ মোট লোন পেয়েছিল ৬ লাখ টাকা। এই টাকা সে কীভাবে খরচ করল? আমি যখন ওর হিসাব শুনলাম, মনে হলো এটা যদি সবাই জানত, তাহলে ব্যবসায় লোকসানের সংখ্যা কমত।
- প্রথম মাস: ফার্মের জমি প্রস্তুতি ও শেড নির্মাণ। এখানেই ১.২ লাখ টাকা খরচ। সে কাঠের বদলে বাঁশের ব্যবহার করল কারণ বাঁশ বেশি দিন টেকে আর খরচ কম।
- দ্বিতীয় মাস: ৫০০টি ব্রয়লার ছানা কেনা, প্রতিটি ২৫ টাকা করে। এতে খরচ ১২,৫০০ টাকা। বাকি টাকা খাবার আর ওষুধের জন্য।
এখানে একটা গুরুত্বপূর্ণ কথা বলি: পার্থ আগে থেকে খাবারের সরবরাহকারীর সাথে চুক্তি করে রেখেছিল। ছোট ব্যবসায়ীরা প্রায়ই বাজার দরে খাবার কেনেন, কিন্তু ও প্রস্তুতকারক কোম্পানির সাথে সরাসরি যোগাযোগ করল। এতে করে খাবার প্রতি ৫০ কেজিতে ১৫০ টাকা সাশ্রয়।
আচ্ছা, আপনি কি জানেন, পোল্ট্রি ফার্মের সবচেয়ে বড় খরচ আসলে খাবার? মোট খরচের প্রায় ৬০-৬৫%। এপ্রিল ২০২৬-এর একটি রিপোর্টে দেখা গেছে, ওড়িশায় সয়াবিন আর ভুট্টার দাম বেড়ে যাওয়ায় অনেক ছোট খামারি দর কষাকষি করতে পারেনি। কিন্তু পার্থ আগে থেকেই বুঝে গিয়েছিল, একবার নির্ভরযোগ্য সরবরাহকারী খুঁজে নিলে সেটা বড় সুবিধা।
তিন মাসের শেষে হিসাব করে দেখল, লাভ এসেছে প্রায় ৫৫ হাজার টাকা। শুনে আমি বললাম, “মাসে ১৮ হাজার টাকা? এটা তো কম!” কিন্তু পার্থ মুচকি হেসে বলল, “বন্ধু, শুরুতেই তো বড় লাভ আসে না। এই টাকা দিয়ে আমি পরের চক্রের খাবার আর ছানার টাকা মেটাচ্ছি। ব্যাংকের কিস্তিও দিচ্ছি। এটাই সফলতা।”
সত্যিই, ছোট ব্যবসায়ীদের ধৈর্য থাকা জরুরি।
আমার জনা একটি সহজ নিয়ম: ব্যবসায় প্রথম ৬ মাসের লাভ কখনই নিজের পকেটে রাখবেন না। বরং ইনভেন্টরি বাড়াতে, শেড মেরামত করতে বা মার্কেটিংয়ে খরচ করুন।
প্রথম সফল বিক্রির পর যে সমস্যা এল: ডিস্ট্রিবিউশন আর চেইন
পার্থের প্রথম ব্যাচের মুরগি যখন বিক্রি করার সময় এল, তখন সে বুঝল, শুধু মুরগি পালন করলেই হবে না বিক্রির ব্যবস্থা আগে থেকে থাকা চাই। ওর গ্রামের কাছের বাজারে সরাসরি গিয়ে বিক্রি করার চেষ্টা করল, কিন্তু সেই বাজারে ইতিমধ্যে চারজন বড় বিক্রেতা ছিল। তারা দাম কমিয়ে দিল।
এই অবস্থায় পার্থ কী করল? সে স্থানীয় হোটেল আর ম্যারেজ হলের সাথে যোগাযোগ করল। ওড়িশায় বিয়ের সিজন থাকে এপ্রিল-মে আর নভেম্বর-ডিসেম্বর। মে মাসে তিনটি বিয়ের ইভেন্টে সরবরাহ করে সে ৩০০ কেজি মুরগি বিক্রি করল। দামও পেল প্রতি কেজি ১৫ টাকা বেশি।
এখানে আরেকটা বড় সমস্যা ছিল পরিবহন। তার কাছে নিজের গাড়ি নেই। ভ্যান ভাড়া করে নিয়ে যেতে খরচ বাড়ছিল। আমি তাকে বললাম, “স্থানীয় যুবকদের সাথে চুক্তি কর, তারা যদি ভ্যান দেয়, তাহলে প্রতিদিন কিছু টাকা ভাগ দিবি।” পার্থ তা-ই করল। এখন প্রতিবেশী গ্রামের এক ছেলে প্রতিদিন সকালে তার ফার্ম থেকে মুরগি বাজারে নিয়ে যায়। এতে খরচ কমেছে ৪০%।
সম্প্রতি জুনের প্রথম সপ্তাহের বাজার রিপোর্টে দেখা গেছে, ওড়িশায় লাইভ মুরগির দাম কেজিপ্রতি ৮০-৯০ টাকা। ব্রয়লারের দাম কিছুটা কম, ৭০-৭৫ টাকা। পার্থ অবশ্য এখন নিজেই দাম নির্ধারণ করতে পারে, কারণ তার কাছে নিয়মিত বায়ার লিস্ট হয়েছে।
বেশিরভাগ ছোট খামারি প্রথমবার ব্যর্থ হন ডিস্ট্রিবিউশন চেইনের অভাবে। পার্থ কিন্তু এই শিক্ষা নিয়ে এক্সপেরিমেন্ট করল।
অ্যাকশনেবল টিপ: আপনার ফার্ম থেকে ২০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের মধ্যে যত বড় ইভেন্ট ভেন্যু, সব স্কাউট করুন। নাম্বার কালেক্ট করে রাখুন। মাত্র একদিনেই ২০-৩০টি কল লাগবে।
পার্থের মুখোমুখি হওয়া রোগের ঝুঁকি: রানিখেট ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ
পোল্ট্রি ব্যবসায় যে সবচেয়ে বড় ঝুঁকি, সেটা হলো রোগ। পার্থের তৃতীয় ব্যাচে হঠাৎ করে মুরগির রানীক্ষেত রোগের লক্ষণ দেখা দিল। ওর ফার্মে ২০টি মুরগি মারা গেল। সে তখনই স্থানীয় পশুপালন দপ্তরে খবর দিল। অফিসার এসে টিকা দিল বাকি মুরগিগুলোকে।
পার্থ বলল, “ভাগ্যিস আমি আগে থেকে বিমা করেছিলাম।” ও ফার্ম শুরু করার সময় ন্যাশনাল এগ্রিকালচারাল ইন্সুরেন্স কোম্পানির একটি পলিসি নিয়েছিল। এতে করে ২০টি মুরগির জন্য ৪০০০ টাকা ক্লেম পেল।
কিন্তু শুধু বিমা করলেই হয় না। প্রতি সপ্তাহে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ভেন্টিলেশন আর সঠিক তাপমাত্রা বজায় রাখা জরুরি। মে মাসের শেষে ওড়িশায় তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে যায়। সেই সময় ফার্মের ফ্যান আর এক্সস্ট ফ্যান কাজ করছিল না। পার্থ দ্রুত ইলেকট্রিশিয়ান ডাকল। নইলে ব্যাপক ক্ষতি হতো।
- একটি পরিসংখ্যান: ভারতের পোল্ট্রি শিল্পে প্রতি বছর ১২-১৫% মুরগি বায়োসিকিউরিটি না মানার কারণে অসুস্থ হয়ে মারা যায়। পার্থ এই কমিটমেন্ট নিয়েছে প্রতি সপ্তাহে দুবার জীবাণুনাশক স্প্রে করে।
- আচ্ছা, একটা কথা: আপনি জানেন কি, বিদেশি জাতের মুরগি স্থানীয় মুরগির চেয়ে রোগ বেশি ধরে? পার্থ শুরুতে ব্রয়লার পুষলেও পরে দেশি মুরগির সাথে মিশিয়ে পালন করছে। এতে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
- পার্থর মতামত: বেশিরভাগ লেখায় বলা হয় টিকা দেওয়াই যথেষ্ট। আমি একমত নই, কারণ টিকা কাজ করে না যদি ফার্ম অপরিষ্কার থাকে। জীবাণুনাশক আর ভেন্টিলেশন এই দুটোই টিকার চেয়ে বেশি জরুরি।
কার্যকরী পরামর্শঃ প্রতিদিন সকালে ফার্মে ঢোকার আগে আপনার জুতো জীবাণুনাশক পানিতে ডুবিয়ে নিন। মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যাপার। এটি রোগ ৭০% কমাতে পারে।
পার্থর লাভের সঠিক হিসাব: ডেটা আর ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
এখন পার্থ কী অবস্থায় আছে? গত তিন মাসের হিসাব বলি। এপ্রিল থেকে জুন এই ৯০ দিনে সে তিনটি ব্যাচ ঘুরিয়েছে। প্রতিটি ব্যাচে ৫০০ করে মুরগি। মোট বিক্রি ১১৮০ টি মুরগি (কিছু মারা গেছে)।
প্রতি মুরগি গড়ে ১.৮ কেজি করে মোট ২১২৪ কেজি মাংস। বাজার দর প্রতি কেজি ৮৫ টাকা ধরে মোট আয় ১,৮০,০০০ টাকা। খরচ বাদ দিয়ে লাভ ৫৪,০০০ টাকা। অর্থাৎ মাসে ১৮ হাজার টাকা।
এখন প্রশ্ন: এই টাকা দিয়ে কি চলবে? পার্থর কোনও বাড়তি খরচ নেই। ও একা থাকে। মাসিক ১৫ হাজার টাকা দিয়ে সে চলে যায়। আর বাকি টাকা জমা করছে পরবর্তী সম্প্রসারণের জন্য।
তার পরিকল্পনা: এখন ফার্মের ক্যাপাসিটি বাড়িয়ে ২০০০ মুরগি করা। এর জন্য আরও ৪ লাখ টাকা লোন নেবে। সে ইতিমধ্যে ব্যাংক ম্যানেজারের সাথে কথা বলেছে। কিন্তু ব্যাংক চায় আগের লোনের রিপেমেন্ট হিস্টরি দেখতে। পার্থ সময়মতো কিস্তি দিয়েছে, তাই অনুমোদনের সম্ভাবনা বেশি।
সম্প্রতি ভারত সরকার পোল্ট্রি খাতে সাবভেনশন দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে। জুনের শুরুর দিকে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বলেছেন, ছোট খামারিদের জন্য ৩০% ভর্তুকি দেওয়া হবে সরঞ্জাম কেনায়। পার্থ খুব উৎসাহিত এই খবরে।
তবে সততার সাথে বলছি, এটা নিশ্চিত না যে সরকারি সাহায্য সব জায়গায় পৌঁছায়। অনেক ছোট খামারির কাছ থেকে শুনেছি, তারা আবেদন করেও পাননি। পার্থ অবশ্য ইতিমধ্যে জেলার কৃষি অফিসে ফাইল জমা দিয়েছে।
পার্থর সাফল্যের রহস্য: আমি বিশ্বাস করি, মাত্র একটি কারণ ও নিজের ভুল থেকে শিখেছে। অনেক উদ্যোক্তা একই ভুল বারবার করে, কিন্তু পার্থ প্রতিটি চক্র শেষে হিসাব করে, নোট করে, সংশোধন করে।
কার্যকরী পরামর্শঃ আপনার ফার্মের মাসিক আয়-ব্যয়ের একটি সরল স্প্রেডশীট তৈরি করুন। প্রতিটি খাতে খরচ লিখুন। পোল্ট্রির খাবার, ভ্যাকসিন, পরিবহন সব। এটি একবার করলেই বুঝবেন কোথায় কমানোর সুযোগ আছে।
শেষ কথা
পার্থর গল্প শুনে আমি একটি জিনিস বুঝলাম ব্যবসায়িক লোন পেয়ে সে যে শুরুটা করল, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ছিল লোন ফেরত দেওয়ার প্ল্যান আর সঠিক খাতে টাকা খরচ করা। বাড়ি ভাড়া বা অন্য খরচে এক পয়সাও নষ্ট করেনি।
আপনি যদি নতুন ব্যবসা শুরু করতে চান, তাহলে পার্থর এই ফর্মুলা কাজে লাগান আগে বাজার বুঝুন, তারপর লোন নিন, আর সবচেয়ে বড় কথা ধৈর্য রাখুন। কেউ রাতারাতি ধনী হয় না, কিন্তু সঠিক পথে এগোলে লাভ আসবেই।

